চমৎকার লেখা, পড়তে পারেন
গতকাল রাজশাহী জেলা আওয়ামী লীগের সাবেক সাধারণ সম্পাদক আসাদের একটা ফেইসবুক পোষ্ট চোখে পড়লো। আসাদ আমাদের সাথেই ছাত্র রাজনীতি করতো। আসাদ ছিলো অত্যন্ত উঁচুমানের সংগঠক, সাহসী, নিষ্ঠাবান ছাত্রলীগ নেতা। তার লেখাকে গুরুত্ব দিতেই হচ্ছে।
আসাদ তার নেত্রীকে উদ্দেশ্য করে লিখেছে যে, আওয়ামী লীগ নাই হয়ে গেছে। যারা আওয়ামী লীগের রাজনীতি করে তাদের মধ্যে খাটি আওয়ামী লীগার সারা দেশে এক হাজার জনও নাই। ছাত্রলীগের রিক্রুটমেন্ট বন্ধ হয়ে গেছে। মিছিলে শ্লোগান দেয়ার লোক পাওয়া যায়না।
এইটা হার্ড কোর আওয়ামী লীগারের মুল্যায়ন। আওয়ামী শাসনে সাংগঠনিকভাবে সবচেয়ে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে আওয়ামী লীগ নিজেই।
দলের জায়গা দখল করেছে পুলিশ আর প্রশাসন। দলের নামে যারা আছে তাদের কাজ হাততালি দিয়ে চিয়ার লিডারের দায়িত্ব পালন করা আর বিনিময়ে কিছু খুদ কুড়া নিয়ে সন্তষ্টু থাকা।
আওয়ামী লীগের বুদ্ধিজীবী নাই। কর্মিও নাই, তাই কর্মীর অভাব পুরণ করে অনলাইনে ডিজিএফআইয়ের আই টি সেলের ভাড়াটিয়া কমেন্ট কারীদের দিয়ে কমেন্ট দিয়ে।
হার্ডকোর আওয়ামী লীগারদের মুল ভয় যে আওয়ামী লীগ ক্ষমতা হারাইলে তাদের পাবলিকে কচুকাটা করবে। আশংকার কিছুটা ভিত্তি তো আছেই। তবে তার উপরে ঝাপায়ে পড়বে তার এখনকার দলের লোকেরাই।
আওয়ামী লীগ যত দুর্বল হবে ততই তার আতংক বাড়তে থাকবে আর ততই সে নির্মম আর নৃশংস হবে। আর ততই তার ভবিষ্যৎ শংকা বাড়তে থাকবে।
সতেরো আঠারো কোটির দেশ। দুই চার পাচ দশ লক্ষ মানুষকে ম্যানেজ করে ভয় দেখিয়ে, ঘুষ দিয়ে কয়দিন চাপায়ে রাখতে? কত পুলিশ রিক্রুট করবে তারা? কত মেশিনগান বসাবে? এটা তো হোস্টাইল টেরিটোরিতে পরিনত হয়েছে আওয়ামী লীগের জন্য। যেইখান থেকে দুঃখজনক ভাবে আখেরি বিদায় হবে। হোস্টাইল টেরিটোরিতে শক্তি প্রয়োগে অবস্থান দীর্ঘায়িত করা যায় কিন্তু অনন্তকালের জন্য নয়।
আওয়ামী লীগের আখেরি বিদায় বাংলাদেশের রাজনৈতিক ইতিহাসের জন্য বেদনার ঘটনা। বাংলাদেশে আওয়ামী লীগের মতো একটা দল থাকার দরকার ছিলো। অন্য কেউ হয়তো সেই শুন্যস্থান পুরণ করবে। কারা করবে সেটা আমরা এখনো জানিনা। যারা আগামীর রাজনীতির জন্য প্রাসঙ্গিক হবে তারাই এই শুন্যস্থান পুরণ করবে।
পোষ্ট আওয়ামী লীগ বাংলাদেশের চেহারাটা খুবই অন্যরকম হবে। যেই সমস্ত পুলিশ লীগ আছে তারাই আগে পল্টি মারবে। এই প্রসঙ্গে ১৯৭৫ এর পনোরোই আগষ্টের একটা ঘটনার কথা উল্লেখ করছি। মেজর ডালিম শাহবাগে বেতার কেন্দ্রে এসেছেন একাই। সামনেই একটা রক্ষী বাহিনীর গাড়ি। গাড়ি ভর্তি রক্ষী বাহিনী উদ্যত অস্ত্র হাতে। মেজর ডালিম গাড়ি থামিয়ে বললো শেখ মুজিবকে হত্যা করা হয়েছে, সামরিক বাহিনি ক্ষমতা দখল করেছে। গাড়ি ভর্তি রক্ষী বাহিনী হর্ষ ধ্বনি করে উঠলো। রক্ষী বাহিনীর কমান্ডার মেজর ডালিমকে স্যালুট দিয়ে বললো, স্যার আমরা আপনাদের সাথে আছি।
যেই টেকাটুকা সম্পদ সবাই কামাইছে সেইগুলো নিরাপদে রাখার জন্যই ওরা আগে ওইযে হার্ডকোর আওয়ামী লীগার তাদের উপরে ঝাপায়ে পড়বে। আর দুধের মাছি যেই সমস্ত ছাত্র লিক যুব লিক হরেক লিক আছে তারা কয়েকদিন হাইবারনেশনে থেকে ক্ষমতাশীনদের সাথে ভিরে যাবে। সেই সবচেয়ে নির্মম হয়ে আওয়ামী লীগারদের উপরে ঝাপায়ে পড়বে। প্রদোষে প্রাকৃতজনে হিন্দু রাজার কুটিল হিন্দু সেনাপতি যেইভাবে মুসলমান বিজয়ের পরে ধর্মান্তরিত হয়ে নিজের সাবেক ধর্মের লোকেদের উপরে ঝাপায়ে পড়ছিলো ঠিক সেইভাবে। কারণ তারা পিঠ বাচানোর জন্য প্রথমেই নিজেদের প্রবল আওয়ামী বিরোধী হিসেবে দেখাতে চাইবে।
একসময় যাদের দুধ কলা দিয়ে পুষছে তাদের হাতে ডলা খাইতে হার্ড কোর আওয়ামী লীগারদের কেমন লাগবে সেটাই ভাবতেছি।
লেখা Pinaki Bhattacharya - পিনাকী ভট্টাচার্য