Site is Under Maintenance
Please come back again in...
অনুগ্রহ করে আবার ফিরে আসবেন...
00 Days
00 Hours
00 Minutes
00 Seconds
Notification texts go here Contact Us Follow Facebook

পলাশী থেকে বাংলাদেশ - আরিফুল হক

পলাশী থেকে বাংলাদেশ
১৭৫৭ সালের ২৩শে জুন জাতীয় বেঈমানদের চক্রান্তে বাংলার শেষ স্বাধীনতা সূর্য অস্তমিত হয়েছিল পলাশীর আম্রকাননে। দু‘শ বছর ধরে বাংলার মানুষ আর সেই সূর্যোদয় দেখেনি। তৎকালীন বাংলার ৪ কোটি মানুষের জীবন ঘিরে নেমে এসেছিল দু:খ, দুর্দশা, লাঞ্ছনা, নির্যাতনের কাল অমাবস্যা। মীরজাফর, উমিচাঁদ, রাজবল্লভ, জগৎশেঠ, ঘসেটি বেগম প্রমূখ নির্বোধ, পরপদলেহী, বিশ্বাসঘাতক, সভাসদ, আমলা, ব্যবসায়ী, বুদ্ধিজীবীরা ব্যক্তিস্বার্থউদ্ধারের বশবর্তী হয়ে জন্মভূমির স্বাধীনতা তুলে দিয়েছিল বিদেশী বেনিয়া ইংরেজদের হাতে। শুধু স্বাধীনতা বিসর্জন দিয়েই তারা ক্ষান্ত হয়নি, তার সাথে বাংলার ঐশ্বর্য, শিল্প-ব্যনিজ্য, শিল্প-সংস্কৃতি ধ্বংস করে সেদিনের প্রকৃত সোনার বাংলাকে শ্মশানে পরিণত করেছিল। ২৩ জুন তারিখটা আজও বাংলার বাংলার মানুষের কাছে কালরাত্রির বিভীষিকা, মহাশ্মশানের প্রেতচ্ছায়ার মত ভয়াবহ এক স্মৃতি। কালরাত্রির সেই ভয়াবহতা কাটিয়ে নবারুনরাগে রন্জিত হওয়ার আশ্বাস ব্যক্ত করে, কবি শ্রেষ্ঠ কাজী নজরুল ইসলাম তাই বলেছিলেন “উদিবে সে রবি আমাদেরই খুনে রাঙিয়া পুনর্বার”।

দু’শ বছর ধরে বাংলার মানুষ খুন ঝরিয়েছিল অঢেল। কবির নজরুলের আশ্বাসবাণী ‘উদিবে সে রবি আমাদের খুনে রাঙিয়া পুনর্বার’ সফল করে পূর্বদিগন্তে সূর্যোদয়ের আভাও দেখা দিয়েছিল। ১৯৭১ সালের ১০ই এপ্রিল পলাশীর আম্রকানন থেকে মাত্র ত্রিশ মাইল দূরে মেহেরপুরের আম্রকাননের ভবেরপাড়া গ্রামের দিগন্তে লাখো শহীদের খুনে রাঙা রক্তিম স্বাধীনতা সূর্যটা ডানা মেলেছিল, কিন্তু সেই সূর্যের উত্তাপ জনগণের কাছে পৌঁছানর আগেই ২৩শে জুনের প্রেতচ্ছায়ারা কালো ডানা বিস্তার করে ঢেকে দিল নব স্বাধীনতা সূর্যের সবটুকু লালিমা। আবার শুরু হল অন্ধকারের যাত্রা। লাখো শহীদের রক্তদান বৃথা হয়েগেল। চাষীর ৫ টাকার লুঙ্গী পরার সাধ পূরণ হলনা, মজুরের ২০টাকা মন চাল খাওয়ার স্বপ্ন দুঃস্বপ্নে পরিণত হল।

প্রথম রজনীতেই বাংলাদেশের কৃষক, মজুর, ছাত্র, ও সেনাবাহিনীর সদস্যদের রক্তের দামে কেনা স্বাধীনতার সবটুকু অর্জন তুলে দেয়া হল লুটেরা ভারতীয় সেনাদের হাতে। ফলে যা হবার তাই হল। ‘হাজার সালকা বদলা’ নেয়ার আনন্দে আত্মহার হয়ে ভারতীয় লুটেরারা লুটপাট চালালো সারা দেশে। পাকিস্তান বাহিনীর ফেলে যাওয়া কোটিকোটি টাকার যুদ্ধাস্ত্র, মার্কেটের সোনা রূপা, টেলিভিশন, এসি, ফ্রিজ, কলকারখানার মেশিনের যন্ত্রাংশ থেকে শুরু করে বাথ রুমের ফিটিং, দরজা জানালার দামী পর্দা পর্যন্ত কিছুই বাদ পড়লোনা বর্গীলুটেরাদের হাত থেকে। বীর মুক্তিযোদ্ধা মেজর এম এ জলিল রুখে দাঁড়ালেন লুটপাটের বিরুদ্ধে, তাঁকে জেলে ভরা হল।

এই লুটপাটের কাহিনী, পলাশী যুদ্ধে সিরাজের পতনের পর, ক্লাইভ, ড্রেক, ওয়াটসন, কিলপ্যাট্রিক এবং তাদের সহযোগীদের মুর্শিদাবাদ লুণ্ঠনের কাহিনীকেই স্মরণ করিয়ে দেয়। মীরজাফর নবাব হয়ে জাতীয় সম্পদ লুণ্ঠনে ইংরেজদের যেমন সহায়তা করেছিলেন, ১৯৭১ সালে বাংলাদেশের আওয়ামীলীগ সরকারও তেমনি দাঁড়িয়ে দাঁড়িয়ে ভারতীয় লুণ্ঠন অবলোকন করেছিলেন— প্রয়োজনে তাদের সহযোগিতা করেছিলেন।

পলাশী যুদ্ধের পর ইঙ্গ-হিন্দুদের লাগামহীন লুণ্ঠনের ফলে, সমৃদ্ধ বাংলার বুকে নেমে এসেছিল ‘ছিয়াত্তরের মন্বন্তরের’ মত মহাদূর্ভিক্ষ, যে দূর্ভিক্ষে দেশের এক-তৃতীয়াংশ মানুষ প্রাণ হারায়।

একইভাবে ১৯৭১সালের যুদ্ধের পর ভারত-আওয়ামীলীগ যৌথ লুণ্ঠনের ফলে বাংলাদেশে, পাকিস্তানের রেখে যাওয়া মজবুত অর্থনীতি সম্পূর্ণ ধ্বংস হয়ে যায়। ৭৪ রে দেখা দেয় আর এক মহাদূর্ভিক্ষ। যে দূর্ভিক্ষে প্রায় ১০ লক্ষ মানুষ প্রাণ হারায়, পথে পথে লাশ পড়ে থাকতে দেখা যায়।

পলাশী যুদ্ধের পর মুসলমানদের শিক্ষাব্যবস্থা পরিকল্পিত ভাগে ধ্বংসকরে তাদের কুলী-কামীনের জাতে পরিণত করার জন্য, মুসলমানদের প্রতিষ্ঠিত ১ লাখ অবৈতনিক প্রাথমিক বিদ্যালয়, হাজার হাজার স্কুল, কলেজ, মাদ্রাসা, এবং বেশ কিছু বিশ্ববিদ্যালয় ধ্বংস করে ফেলা হয়েছিল।

তেমনি ১৯৭১ সালের পর ভারতীয় শিক্ষা উপদেষ্টার উপদেশ মত বাংলাদেশের শিক্ষাব্যবস্থার শিরদাঁড়া গুঁড়িয়ে দেয়া হয়েছিল। পরে অবশ্য রাজনীতিবিদরা ভারতের কথা মত, দেশের অভিজ্ঞ, যোগ্য, শিক্ষকমণ্ডলীকে নানান অজুহাতে বিতাড়িত করে তাঁদের জায়গায় দলবাজিতে পারঙ্গম, অনভিজ্ঞ শিক্ষকদের নিয়োজিত করেছিল। এইসব অযোগ্য শিক্ষকরা স্বপদে বহাল থাকার জন্যই শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে রাজনীতি শুরু করে, ছাত্রদের নিজদলে রাখার পন্থা হিসাবে তাদের হাতে অস্ত্র রাখতে সহায়তা করে, তাদের দিয়ে মিটিং করায়, প্রতিদানে ছাত্রদের অন্যায্য দাবিদাওয়া মেনে নিতে হয়। এধরনের দাবী মানতে গিয়ে শর্টকোর্স পরীক্ষা পদ্ধতি চালু করে হয়েছিল, ফলে পরিশ্রমের মাধ্যমে জ্ঞান অর্জন নয়, ফাঁকি দিয়ে ডিগ্রী অর্জনের প্রবণতা বেড়ে যায়, শুরু হয় গণটোকাটুকির মহোৎসব, আসে প্রশ্নপত্র ফাঁসের নব নব কৌশল, যার বিষ থেকে বাংলাদেশ আজও মুক্ত হতে পারেনি । নব্য মীরজাফরের দল বাংলাদেশের শিক্ষাব্যবস্থাকে সম্পূর্ণ ধ্বংস করে ফেলে। সেকালে প্রাচ্যের অক্সফোর্ড নামে খ্যাত ঢাকা বিদ্যালয়ের ডিগ্রীর দাম আজ বিশ্বের কোথাও দাম নেই। এমনকি এশিয়ার ১০০টি প্রসিদ্ধ বিশ্ববিদ্যালয়ের মধ্যেও বাংলাদেশের কোন নাম নেই।

পলাশী যুদ্ধের পর মীরজাফর যেমন কলকাতার অধিকার ক্লাইভের হাতে তুলে দিয়েছিল।

৭১ এর যুদ্ধের পর আওয়ামীলীগ গোটা বাংলাদেশটাই ভারতের হাতে তুলে দিয়েছে । নদীর পানি দিয়েছে, সমুদ্রের গ্যাস দিয়েছে, দু’টো বন্দর দিয়েছে, দেশের এপ্রান্ত থেকে ও প্রান্ত যাতায়াতের পথ দিয়েছে। দেশের সমুদ্র উপকূল পাহারার দায়িত্ব দিয়েছে। বাকি থাকল কি?

১৭৫৭ সালের পলাশী যুদ্ধের পর যেমন আইন শৃঙ্খলা পরিস্থিতি ভেঙে পড়েছিল। কৃষকদের নির্যাতন করে নীলচাষে বাধ্য করা হয়েছিল। মসলিন তাঁতীদের আঙুল কেটে পঙ্গু করা হয়েছিল।

১৯৭১ সালের যুদ্ধের পর বাংলাদেশেও তেমনি আইন শৃঙ্খলা বলতে কিছু কিছু ছিলনা। খবরের কাগজের শিরোনামে লেখা হত “এবার কারফিউ দিয়ে লুট”। “৯মাসে রংপুরে ৩০২ টি খুন, ২২৬টি ডাকাতি”। “হত্যা, লুট, ধর্ষণ,হয়রানি, ডাকাতদের ভয়ে গ্রামবাংলার মানুষ ভিটেমাটি ছেড়ে শরণার্থী সেজেছে” ইত্যাদি।

আজও ৭১এর প্রেতাত্মা আওয়ামীলীগ ক্ষমতায়। আজও দেশে হত্যা, ধর্ষণ, খুন, গুমখুন, রিমান্ডে নিয়ে পঙ্গু ,লুটপাট, চুরি, ডাকাতি, ছিনতাই, কাস্টডিতে নিয়ে খুন ,ক্রসফায়ার খুন, এনকাউন্টারসহ খুনের যে কত ধরণ, প্রকার ও কী কী, বাংলাদেশে পা না দিলে বোঝা যাবেনা। দেশে বিচার ব্যবস্থা পঙ্গু।

তার উপর টাকা পাচার। পত্রিকার খবর অনুযায়ী ২০১৫ সালেই দেশ থেকে পাচার হয়েছে ১লাখ কোটি টাকার বেশি (যুগান্তর৭.৬.২২) জি এফ আই এর রিপোর্ট অনুযায়ী ৪লাখ কোটি টাকা পাচার হয়েছে দেশ থেকে। আর এসবই আওয়ামী মন্ত্রী, মন্ত্রণালয় আর পাণ্ডাদের কীর্তি।

২৩ শে জুনের কালো দিনে জন্মগ্রহনকারি আওয়ামীলীগ দলটির আচার আচরণ কর্মসূচী কোনদিনই স্বদেশমূখী ছিলনা, আজও নেই।
তুলনামূলক আলোচনা করলে পলাশী যুদ্ধের পর মীরজাফর বাংলার যা ক্ষতি করেছিল, আওয়ামীলীগ কর্তৃক বাংলাদেশের ক্ষতি পরিমাণ তুলনা করলে সেটা মীরজাফরকে ছাড়িয়ে যাবে একহাতে উন্নয়নের জপমালা অন্য হাতে গলাকাটার ছুরি, এই চিত্রই আওয়ামীলীগের বাহাদূরী।
তথ্য সূত্র

1. কলামিস্ট, বুদ্ধিজীবী ও সংস্কৃতিক ব্যক্তিত্ব-আরিফুল হক।

About the Author

Hello Friends. Welcome to my website. I hope you all are doing good. If you like our work. Please revisit again. And do like and follow our blogs. I Enjoy Writing, Drawing, And Self-taught.

Post a Comment

Raselbdc Media Rules:- এই নিবন্ধটি সম্পর্কে আপনার মতামত বা কোন সন্দেহ ছেড়ে দিন এবং আপনার কোন প্রশ্ন থাকলে নির্দ্বিধায় জিজ্ঞাসা করুন। স্প্যাম করার চেষ্টা করবেন না, আমাদের দল প্রতিটি মন্তব্য পর্যালোচনা করে।
Cookie Consent
We serve cookies on this site to analyze traffic, remember your preferences, and optimize your experience.
এই সাইটে আমরা ট্র্যাফিক বিশ্লেষণ করতে, আপনার পছন্দ মনে রাখতে এবং আপনার অভিজ্ঞতাকে উন্নত করতে কুকি ব্যবহার করি।
Oops!
It seems there is something wrong with your internet connection. Please connect to the internet and start browsing again.
মনে হচ্ছে আপনার ইন্টারনেট সংযোগে কোনো সমস্যা হয়েছে। অনুগ্রহ করে ইন্টারনেটে সংযোগ করে আবার ব্রাউজ করা শুরু করুন।
AdBlock Detected!
We have detected that you are using adblocking plugin in your browser.
The revenue we earn by the advertisements is used to manage this website, we request you to whitelist our website in your adblocking plugin.
আমরা শনাক্ত করেছি যে আপনি আপনার ব্রাউজারে অ্যাডব্লকিং প্লাগইন ব্যবহার করছেন।
বিজ্ঞাপন থেকে আমরা যে আয় করি তা এই ওয়েবসাইটটি পরিচালনা করতে ব্যবহৃত হয়, তাই আমরা আপনাকে আপনার অ্যাডব্লকিং প্লাগইনে আমাদের ওয়েবসাইটটিকে হোয়াইটলিস্ট করার জন্য অনুরোধ করছি।
Site is Blocked
Sorry! This site is not available in your country.